আজ রাতেই চিঠিটা শেষ করতে হবে । বাবা মা ঘুমালে কাজটা করতে হবে । যেন তাঁরা না বুঝতে পারেন । আরো একটি কাজ করতে হবে মা-বাবার কাজ থেকে ক্ষমা চেতে হবে । স্কুলের ফ্রেন্ডদের কাছেও বলতে হবে ক্ষমার জন্য , দেশে দাদা-দাদু, নান-নানুকে বলতে হবে , চাচা, ফুপ্পি সবাইকে বলতে হবে ।
বাবা যখন গতকাল রাতে আমার বাব প্রতি রাতের মত আমার রুমে আসল কুরান পড়ার জন্য । আমি বাবাকে সবসময় বলতাম : বাবা আমি রাতে শোয়ার সময় প্রতি রাতে আমার পাসে বসে কোরান তেলওয়াত করবে । আমি ঘুম পড়লে চলে যাবে ।
বাবা তাই সেই থেকে প্রতি রাতেই আমার পাশে বসে কোরান পড়তেন । বাবার কোরান তেলওয়াত ছিলো খুবই সুন্দর । তার কন্ঠে তেলওয়াত শুনলে যে কারর মন ভালো হয়ে যাবে । যে কেও মানে বুঝলে চোখ দিয়ে পানি পড়বে ।
গতকাল রাতে বাবা মনে করলেন আমি ঘুমিয়ে গিয়েছি তাই চলে গেলেন । কিছুক্ষণ পর আমি উঠে চিঠিটা লেখা শুরু করলাম ।
হে আল্লাহ ,
তুমি শ্রেষ্ঠ , তুমি সুন্দর । আমি তোমার ডিসিশনে স্যাটিসফাইড । কিন্তু আল্লাহ আমার খুব কষ্ট হচ্ছে , আমাকে এই কষ্ট থেকে উদ্ধার করো প্লীজ ।
আমি ভাবতে লাগলাম আর কি লেখা যায় । উমম আমার মনে হয় এটুকুতেই হবে ।
চিঠিটা লিখে আমি শুতে গেলাম । আমি প্রস্তুত মৃত্যুর জন্য । ডাক্তার আংকেল বলেছে অবশ্য এখন ১সপ্তাহ । কিন্তু আমি প্রস্তুত ।
আজ দুপুরে আমি দেশে ফোন করে সবার সাথে কথা বললাম । আমি ক্ষমা চেয়ে নিয়েছি সবার কাছ থেকে । সবাই অনেক কানতেছে । তবে আমার বাবার অনেক ধৈর্য্য । আমিও বাবাকে বলেছি আল্লাহর ডিসিশনে আমি স্যাটিসফাইড ।
মা অনেক কানতেছিলো । মা আমার চুলে সবসময় হাত বুলিয়ে দেয় । খুব ভালো লাগে ।
আমি হঠাৎ চলে গেলাম এই সুন্দর ভুবন থেকে । লা ইলাহা ইল্লালাহু মোহাম্মাদুর রাসূলুল্লাহ ।
——————————–
—[ গত ২ সপ্তাহ আগে লন্ডনে একটি ১৩ বছরের বাঙালী মেয়ে ঠিক এভাবেই মারা যায় । মারা যাওয়ার পর তার বাবা বই খাতার মধ্যে থেকে চিঠিটা উদ্ধার করেন । মেয়েটি মারা যাওয়ার পর কতটা ধৈর্য্য ধরে ছিলেন তবে চিঠিটা পাওয়ার পর সব কান্না একসাথে নামিয়ে দিলেন বুক থেকে । আপনারা প্লীজ এমন একটি মেয়ের জন্য দোয়া করবেন যেন সে জান্নাতুল ফেরদৌসের বাসিন্দা হয় ]—